দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, বরং এটি একটি ‘আর্টিফিসিয়াল’ বা কৃত্রিম সংকট বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ অনেক বাড়ানো হয়েছে।অসাধু চক্র একটি ইনফর্মাল (অনানুষ্ঠানিক) বাজার তৈরির জন্য পাম্পগুলোতে কৃত্রিম লাইন তৈরি করছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের আনীত ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভাগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুদ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২৭১ টন ডিজেল, ৪২ হাজার ৩০০ টন অকটেন, ১৮ হাজার ৪৪০ টন পেট্রল এবং ১৯ হাজার ৪৩৯ টন জেট ফুয়েল মজুদ আছে।এছাড়া মেরিন ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
সরবরাহের তুলনা করে তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে এই সময়ে প্রতিদিন ৩১৩ টন ডিজেল সরবরাহ করা হতো, আর ২০২৬ সালে আমরা দিচ্ছি ৪৬৭ টন।অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার সাড়ে ৩৭ শতাংশ বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। একইভাবে পেট্রল ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং অকটেন ২৬ শতাংশ বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাড়ি আসাদগেটে দুটি পেট্রল পাম্পের উল্টো দিকে। আমি দেখেছি দীর্ঘ লাইন, কিন্তু এটি ন্যাচারাল লাইন নয়। তেলের একটি ইনফর্মাল মার্কেট বা কালোবাজার তৈরির জন্য অসাধু লোকরা এ কৃত্রিম লাইন তৈরি করছে। পাম্পে যারা আসলেই নিডি (প্রয়োজনীয়), তারা অসাধুদের ভিড়ে তেল পাচ্ছে না। আমি সাংবাদিকদের অনুরোধ করব ইনভেস্টিগেশন করে দেখুন, এই লাইন কি প্রয়োজনের নাকি অসাধু ব্যবসার জন্য।’
জ্বালানি পাচার ও কালোবাজারি রোধে সরকারের সক্রিয়তার কথা জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি প্রতিদিন রেইড (অভিযান) পরিচালনা করছে। আমরা অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে লক্ষ লক্ষ লিটার তেল উদ্ধার করে বাজারে ছেড়েছি। প্রতিদিন সকালে আমরা ডিসি-এসপিদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করছি।’
এলপিজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার একটি আইন পাস করে পুরো এলপিজি খাতকে প্রাইভেট সেক্টরের হাতে দিয়ে গিয়েছিল। সরকার এটি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না, নিয়ন্ত্রণ করে এনার্জি কমিশন। তবে আমরা ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি বা ইউটিলিটি ল’ বাতিল করেছি। এখন কোনো কিছু ক্রয় করতে হলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ফলো করে পারচেজ কমিটিতে যেতে হয়। আমরা জ্বালানি খাতকে স্বচ্ছতা ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’
থাইল্যান্ড বা পাকিস্তানের মতো ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা স্কুল বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার নেয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না। তিনি অত্যন্ত লিবারেল। আমরা যথাসাধ্য তেল সরবরাহ করে যাচ্ছি।’
সবশেষে তিনি অসাধু চক্র ও কৃত্রিম লাইনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য বিরোধীদলসহ সব সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।