প্রাণিস্বাস্থ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে আইসিবির পুষ্পগুচ্ছ হলে ষষ্ঠ এ প্রদর্শনীটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু সুফিয়ানসহ সরকারি ও বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে আয়োজনস্থল ঘুরে দেখা যায়, প্রদর্শনী হলের চারপাশে সাজানো রঙিন স্টলগুলোতে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক ভ্যাকসিন, ওষুধ, নিরাপদ ফিড সলিউশন, ডায়াগনস্টিকস ও অন্যান্য প্রাণী স্বাস্থ্যের প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং নতুন তথ্য সংগ্রহ করছেন।
এবারের প্রদর্শনীতে বিশ্বের ১৪টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। চীন, ভারত, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, মিশর, রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ১২৮টি স্টল এবং ৬৫ জন আন্তর্জাতিক প্রদর্শক তাদের প্রযুক্তি ও উদ্যোগগুলো তুলে ধরছেন প্রদর্শনীতে।
দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এবং শনিবার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত চলবে।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি কৃষক, ক্ষুদ্র খামারি, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা নতুন চিন্তা, প্রযুক্তি ও সম্ভাবনার সন্ধান করছেন, যেন তারা তাদের খামার ও ব্যবসায় উন্নতি আনতে পারেন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় ফরিদা আখতার বলেন, শুধু প্রাণীকে খাদ্যের উৎস হিসেবেই দেখলে নয়; প্রাণীর স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পরিবেশ—এই তিনটি উপাদানকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি মনে করেন, বিশেষত মাছ, পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতে রোগ প্রতিরোধ, নিরাপদ ফিড সিস্টেম এবং ভ্যাকসিন ব্যবহারের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এ ছাড়াও তিনি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের লেন, বাংলাদেশে প্রাণী স্বাস্থ্যের জন্য পৃথক ড্রাগ আইন এবং স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজন রয়েছে, এবং ইতোমধ্যেই এ খাতের উন্নয়নে তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
স্টলগুলোতে পরামর্শ, পণ্য ডেমো, ব্যবসায়িক কৌশল আলোচনা, আন্তর্জাতিক শিল্পের নতুন প্রবণতার আলাপ—সবকিছুই সরাসরি দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে, যা প্রাণিস্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।