টকশো’ তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক এবং সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ফাহমিদা হক বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে মনোনীত হওয়াকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে।
এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জিল্লুর রহমান বলেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে ফাহমিদা হকের এই মনোনয়ন তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কাজেরই একটি ধারাবাহিক অগ্রগতি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিজিএসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী ফাহমিদা হক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় অনেক বন্ধু, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা আমার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন।সে কারণেই সংক্ষেপে আমার কিছু কথা জানানো প্রয়োজন মনে করছি।’
ফাহমিদা আগে থেকেই জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে আছেন জানিয়ে জিল্লুর বলেন, ‘ফাহমিদার জনসম্পৃক্ততা আজকের বিষয় নয়।দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লেখালেখি, সামাজিক উদ্যোগ এবং নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত আছেন। তিনি দেশজুড়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, নানা সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং তার লেখার মাধ্যমে জনপরিসরের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তার রাজনীতি ও জনজীবনের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে।’
‘সংসদ সদস্য হিসেবে তার এই মনোনয়ন তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতারই একটি নতুন অধ্যায়। আমি আশা করি, তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক আলোচনায় ইতিবাচক অবদান রাখবেন।’
জিল্লুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার পেশাগত জীবন—একজন সাংবাদিক, কলামিস্ট, টক শো উপস্থাপক এবং একটি নীতি-গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে— দীর্ঘ কয়েক দশকের স্বাধীন পেশাগত কাজের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। সেই পেশাগত দায়িত্ব ও অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে একই পরিবারের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন জনভূমিকা পালন করতে পারেন, কিন্তু পেশাগত সততা সব সময় স্বাধীন থাকতে হবে। বস্তুনিষ্ঠতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং উন্মুক্ত জনআলোচনার প্রতি প্রতিশ্রুতিই আমার কাজকে পরিচালিত করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’
স্ত্রীর সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, ‘ফাহমিদার নতুন দায়িত্ব পালনে আমি তার সাফল্য কামনা করি। আর আমার ক্ষেত্রে, সাংবাদিকতা ও নীতি-আলোচনার ক্ষেত্রে যে স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এত দিন কাজ করেছি, সেই একই নীতিতে আমি আমার কাজ চালিয়ে যাব।’